অধ্যাপক সংকটে পাবিপ্রবি, ৮ বিভাগে নেই একজনও

‎পাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১১ পিএম


অধ্যাপক সংকটে পাবিপ্রবি, ৮ বিভাগে নেই একজনও
ছবি: আরটিভি

প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) আটটি বিভাগে এখনো কোনো অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের অধীন ২১টি বিভাগের মধ্যে মাত্র ১৩টিতে রয়েছেন ৩৫ জন অধ্যাপক। অভিজ্ঞ শিক্ষকের এই সংকটে শিক্ষা, গবেষণা ও থিসিস তদারকিসহ উচ্চশিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে সর্বোচ্চ সাতজন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ছয়জন অধ্যাপক আছেন। এ ছাড়া গণিত, ইইসিই ও আইসিই বিভাগে তিনজন করে; ইইই, ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিসংখ্যান বিভাগে দুজন করে এবং সিএসই, অর্থনীতি ও ইতিহাস বিভাগে মাত্র একজন করে অধ্যাপক রয়েছেন।

image

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, থিসিস ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একাডেমিক দিকনির্দেশনা সবসময় পাওয়া যায় না। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণাপত্র প্রকাশ কিংবা গবেষণাসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য অনেক সময় অন্য বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হয়। শুধু অধ্যাপকের সংকটই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সামগ্রিক শিক্ষকসংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠার এতদিন পরও অধ্যাপক পায়নি ফার্মেসি, স্থাপত্য, রসায়ন, সমাজকর্ম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ইংরেজি, লোকপ্রশাসন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অভিজ্ঞ একাডেমিক নেতৃত্বের অভাবে থিসিস ও গবেষণার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

অধ্যাপক সংকটের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটও প্রকট। সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ২১৩ জন। এর মধ্যে ৫৫ জনই বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে আছেন। মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও পাবিপ্রবিতে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

এ ছাড়া শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে ১৭ জনের ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তারা কর্মস্থলে ফেরেননি। চারজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম জানান, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক পাওনা আদায়ের পাশাপাশি পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission